|
ছোট্টমনিদের জগত হলো জুনিয়র সোনালি সকাল। ছোট্ট বন্ধুরা, এখানে তোমরা বিভিন্ন গল্প, কবিতা, ছড়া, ছবি আঁকা পাঠাতে পারবে। এখানে জানতে পারবে তোমাদের বন্ধুরা কি করছে। নতুন বন্ধুও খুঁজে নিতে পারবে এখান থেকে ... |
 |
|
|
|
 |
 |
 |
|
 |
|
|
|
|
| কেমন হওয়া উচিত নিউ ইয়ার রেজুলেশন |
 |
নিশাত
শুরু হয়ে গেল আরেকটি নতুন বছর। পুরনো বছরের সব খারাপ দিক যেন আমাদের নতুন বছরকে একবিন্দুও প্রভাবিত করতে না পারে- এই হোক আমাদের সঙ্কল্প। সঙ্কল্প মানে জানো তো ছোটো বন্ধুরা? এর মানে হচ্ছে সিদ্ধান্ত। আমরা একে রেজুলেশনও বলতে পারি। তোমরা কি ঠিক করেছো কেমন হবে তোমাদের নতুন বছরের রেজুলেশন? যদি ঠিক না করে থাকো তাহলে এখনই ঝটপট ভেবে ফেলো কোন কাজটি কখন করবে। কিংবা কোন অবস্থানে তোমরা নিজেদের দেখতে চাও। আর এ সময়টি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য খুব ভালো একটি সময়। আমি তোমাদের কিছু আইডিয়া দিতে পারি। যেমন ধরো-
নতুন কিছু করার চেষ্টা করা
জীবনে ভালো কিছু করতে হলে কিছুটা কষ্ট তো করতেই হয়। সব সময় তাই চেষ্টা করা উচিত আমাদের চারপাশে সামান্য যা কিছুই ঘটুক না কেন তা থেকে ভালো জিনিসটা গ্রহণ করে নিজে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা। প্রত্যেকের কিছু হবি বা শখ থাকে। যেমন কেউ পছন্দ করে ছবি আকতে, কেউবা গান, নাচ কিংবা কবিতা লিখতে। যে যাই করতে পছন্দ করো না কেন তোমরা সেই শখটিকে ভালোবাসতে চেষ্টা করবে এবং তা মন দিয়ে চর্চা করবে।
পড়ার জন্য পড়া নয়
লেখাপড়াকে নিতে হবে বিনোদনের অংশ হিসেবে। আমরা টেলিভিশন দেখে বা গান শুনে যেমন আনন্দ পাই তেমনি লেখাপড়াকে কষ্ট না ভেবে আনন্দের সঙ্গে পড়তে হবে। আরেকটি কথা পড়ালেখা করা জগৎকে জানার জন্য, নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য। একটি জাতির উন্নতি তখনই সম্ভব যখন তারা শিক্ষিত হয়।
পরিবেশ বাঁচাও
একবার চিন্তা করো, আমরা যদি একবেলা না খেয়ে থাকি তাহলে কেমন দুর্বল হয়ে পড়ি, কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারি না। তারপর মোবাইল সেটের কথা চিন্তা করো- সেটাকে ঠিকঠাক রাখতে হলে প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়। আমাদের পরিবেশ ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের কিছু চার্জ দিতে হবে। এই যেমন ধরো যে যার সাধ্যমতো নতুন গাছ লাগাতে হবে, প্লাস্টিক বোতলে পানি নেয়া চলবে না, প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা চলবে না।
বেশি বেশি খেলাধুলা
শুধু পড়াশোনা, স্কুল, টিভি আর কমপিউটারে গেমস খেললে কি শরীর ভালো থাকে? শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে বেশি বেশি খেলাধুলা করা উচিত। দৌড়াদৌড়ি করা উচিত। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট হলেও হালকা-পাতলা ব্যায়াম করা শরীরের জন্য ভালো। তবে হ্যা এখন আমরা অনেকেই ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকি। তাই খেলাধুলা করতে গিয়ে যাতে আবার নিচতলার মানুষটির অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে।
নিয়মিত দাত ব্রাশ
প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার দাত ব্রাশ করা জরুরি। শুধু কি তাই ঘড়ি দেখে পুরো দুই মিনিট ভালো করে ওপরে-নিচে ব্রাশ করতে হবে। তারপর সারা দিন যতো খুশি আইসক্রিম, চকোলেট খাও। নিয়মিত দাত ব্রাশ করলেই কেবল দাতের ডাক্তারের কাছ থেকে ছুটি নেয়া সম্ভব।
মানুষের জন্য ভাবতে হবে
ছোটরাও অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে, তারাও আমাদের দেশে অসহায়, বঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাড়াতে পারে। তোমাদের একসঙ্গে অনেক মানুষের দায়িত্ব একা নিতে হবে না। সব সময় চেষ্টা করবে যে যার সাধ্যমতো অবস্থানে থেকে অন্তত একজন অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে, তাদের সহযোগিতা করতে।
কখনো নীরব দর্শক হবে না
একবার দুই বন্ধু বিকালে হাটতে বের হয়েছিল। কথা বলতে বলতে তাদের খেয়াল ছিল না তারা পাহাড়ের একদম ওপরে উঠে গিয়েছে। এর মধ্যে একজন হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেল পাশের খাদে। সেখান থেকে উদ্ধার করা তার বন্ধুর পক্ষে একদমই সহজ ছিল না। তখন বন্ধুটি নীরব দর্শক না হয়ে দৌড়ে বড়দের খবর দিল। সঙ্গে সঙ্গে তারা এসে ছেলেটিকে গভীর খাদ থেকে উদ্ধার করে। হ্যা বন্ধুরা, তোমাদের বলছি, তোমরাও এভাবে মানুষের বিপদে এগিয়ে আসবে। নিজে না পারলে বড়দের জানাবে। তবে কখনো নীরব দর্শক হবে না। আজ যদি তুমি কাউকে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করো, দেখবে সে-ও এক দিন তোমার বিপদে এগিয়ে আসবে।
আব্বু আম্মু সবচেয়ে বড় বন্ধু
আব্বু আম্মু সবচেয়ে বড় বন্ধু- এ কথা কি তোমরা উপলব্ধি করতে পারো? দেখবে তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটি বিপদের দিনে তোমাকে ফেলে চলে গিয়েছে কিন্তু আব্বু-আম্মু কোনোদিন যাবেন না। তারা কখনো তোমার অমঙ্গল চান না। তাই আমাদের উচিত হবে তাদের ভয় না পেয়ে তাদের বন্ধু হিসেবে দেখা। তাদের কাছে কোনো কথা গোপন না রেখে সবকিছু খুলে বলা। দেখবে জীবন অনেকখানি সহজ হয়ে গিয়েছে।
দিনে অন্তত একবার একসঙ্গে খাওয়া
সারাদিন আমাদের স্কুল, হোমওয়ার্ক, গানের ক্লাস কতো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর ওপর তো বড়রাও তাদের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই সবাইকে একসঙ্গে পাওয়ার একমাত্র জায়গা হলো ডাইনিং টেবিল। চেষ্টা করবে দিনে অন্তত একবার পরিবারের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সেরে ফেলতে। এতে পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে।
ধীরে চলো
আগে গেলে বাঘে খায়, পিছে গেলে সোনা পায়- এই প্রবাদ বাক্যের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। আমাদের উচিত হবে কোনো কাজে তাড়াহুড়ো না করে সবকিছু ভেবে চিন্তে করা। সব কাজে যদি আমরা একসঙ্গে হাত দিই তবে কোনোটাই ভালোভাবে শেষ করতে পারবো না। তাই আগে একটি প্ল্যান চার্ট করবে তারপর আস্তে আস্তে প্ল্যানমাফিক এগোতে হবে। দেখবে তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
সবশেষে বলবো ছোটরা হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই আমাদের আগামী দিনগুলো যাতে সুন্দর হয়, সহজ হয় সে জন্য এখন থেকেই চেষ্টা করতে হবে। সবাইকে হ্যাপি নিউ ইয়ার। |
| |
|
|
|